Thursday, 18 December 2025

বিনির্দেশ ও প্রাক্কলন কমিটি (Specification and Estimate Committee)

পিপিআর - ২০২৫ এর বিধি-৯ অনুযায়ী ক্রয়কারীকে "বিনির্দেশ ও প্রাক্কলন কমিটি" গঠন করতে হবে। দরপত্র বা প্রস্তাব আহ্বানের পূর্বে উন্নয়ন ও পরিচালন উভয় ধরনের বাজেটের আওতায় ক্রয় সম্পাদনের জন্য এই বিনির্দেশ ও প্রাক্কলন কমিটি গঠন করা বাধ্যতামূলক। ক্রয়কারী তফসিল-২ এ উল্লিখিত সদস্যগণের সমন্বয়ে একটি বিনির্দেশ ও প্রাক্কলন কমিটি গঠন করিবে। তফসিল-২ মতে ক্রয়কারী নিজ দপ্তর কিংবা অন্য দপ্তর হতে ন্যুনতম ৩ জন, সর্বোচ্চ ৫ জন সদস্য সমন্বয়ে এই কমিটি গঠন করতে পারবে। লক্ষ্যনীয় যে, বহিঃ সদস্য বাধ্যতামূলক নয়, একইভাবে  নিজ দপ্তর হতে সদস্য নেয়াও বাধ্যতামূলক নয়। 

বিধি ৯(২) এর বিধানমতে, বিনির্দেশ ও প্রাক্কলন কমিটি পণ্য, কার্য, ও ভৌতসেবা ক্রয়ের জন্য কারিগরি বিনির্দেশ (Technical Specification) বা কার্যসম্পাদন বিনির্দেশ (Performance Specification) প্রস্তুত করবে। বুদ্ধিবৃত্তিক ও পেশাগতসেবা ক্রয়ের জন্য এই কমিতি কর্মপরিধি (Terms of Reference, TOR) প্রণয়ন করিবে। 

অতপরঃ বিনির্দেশ ও প্রাক্কলন কমিটি বাজার দর (Market Price) যাচাই এবং/অথবা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত দর তফসিল (Schedule of Rates) মোতাবেক দাপ্তরিক ব্যয়প্রাক্কলন (Official Cost Estimate) প্রণয়ন করবে। [বিধি ৯(২)]

কাজেই দেখা যাচ্ছে যে, এই কমিটি ক্রয় প্রক্রিয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্তঃ (১) বিনির্দেশ প্রস্তুতকরন, ও (২) দাপ্তরিক ব্যয়প্রাক্কলন প্রণয়ন।  কাজের গুরুত্ব অনুধাবন করে বিধি ১৯ এ এই কমিটির জন্য সম্মানীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সদস্যগণ সর্বনিম্ন সভা প্রতি ১০০০ এবং সর্বোচ্চ সভা প্রতি ৫০০০ টাকা সম্মানী প্রাপ্ত হবেন। দশ কোটি টাকার উর্ধ্বের ক্রয়ের জন্য সর্বোচ্চ ৩টি সভার জন্য এবং দশ কোটি টাকা পর্যন্ত ক্রয়ের জন্য সর্বোচ্চ ২টি সভার জন্য সম্মানী প্রাপ্য। 

বিশেষভাবে লক্ষ্যনীয় যে, এই প্রথম  দর তফসিলকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। ইতোঃপূর্বে পিপিআর - ২০০৮ এ শুধু বাজার দর অনুযায়ী ব্যয়প্রাক্কলন তৈরির বিধান ছিল। দর তফসিলে উল্লিখিত বিভিন্ন আইটেমের দর অনেক সময় বাজার দর হতে অনেক কম/বেশি হয়ে থাকে। সে প্রক্ষিতে দর তফসিল এর ব্যবহার ক্রয় প্রক্রিয়া সহজ করবে নাকি আরো জটিলতা তৈরি করবে তা বোঝার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। উল্লেখ্য যে, বর্তমানে বিভিন্ন দপ্তরের দর তফসিল অর্থ মন্ত্রনালয় হতে অনুমোন দেয়া হয়।  




Saturday, 6 December 2025

পিপিআর ২০২৫ অনুযায়ী ইকনোমিক অপারেটর বলতে কি বুঝায়?

"ইকনোমিক অপারেটর" কারা?

পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫-এ "ইকনোমিক অপারেটর" নামে নতুন একটি পরিভাষা যোগ করা হয়েছে। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫ এর বিধি ২ এর উপবিধি ৭ - এ "ইকনোমিক অপারেটর"-কে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। পিপিআর ২০২৫ অনুযায়ী ইকনোমিক অপারেটর হলো সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যারা সরকারি অর্থে পরিচালিত কোনো ক্রয়ে কার্য সম্পাদন, পণ্য সরবরাহ কিংবা সেবা প্রদান করতে কোনো ক্রায়কারীর সাথে চুক্তিবদ্ধ রয়েছে। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কার্য ঠিকাদার (Contractor), পণ্য সরবরাহকারী (Supplier), ভৌত সেবা প্রদানকারী (Service provider) এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠান (Consultant) কিংবা ব্যাক্তি পরামর্শক (Individual Consultant)। এদের সকলকে সম্মিলিতভাবে বুঝানোর জন্য "ইকনোমিক অপারেটর" এর ধারনাটি আনা হয়েছে। এতে আইনের ভাষা অনেক সহজ ও বোধ্যগম্য হয়েছে। 

পিপিআর ২০২৫ এর পরিভাষা অনুযায়ী কার্য চুক্তি বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানকে 'ঠিকাদার' নামে অভিহিত করা হয়, পণ্য সরবারাহ চুক্তি বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানকে 'সরবরাহকারী' নামে অভিহিত করা হয়। অন্য দিকে ভৌত সেবা চুক্তিতে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানকে 'সেবা প্রদানকারী' আর বুদ্ধিবৃত্তিক সেবা প্রদানকারীকে 'পরামর্শক' নামে অভিহিত করা হয়। কিন্তু সেসব বিধি এই চার শ্রেনীর প্রতিষ্ঠানের জন্যই প্রযোজ্য, সেক্ষেত্রে পিপিআর ২০০৮-এ প্রতিবার তাদের সকলকে 'অথবা' দ্বারা যুক্ত করে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ওই বিধিগুলো একটু জটিল হয়েছে। ঐ বিধিগুলোকে সহজ পাঠ্য করা ও বিধির ভাষা সংক্ষিপ্ত রাখার লক্ষ্যে "ইকনোমিক অপারেটর" নামে নতুন এই পরিভাষাটি পিপিআর ২০২৫ -এ যোগ করা হয়েছে। এটি একটি আধুনিক ধারনা।  

 

Thursday, 4 December 2025

পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫ এ নতুন সংযোজনসমূহ

 পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫ বিগত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ জারী করা হয়েছে যা "পিপিআর ২০২৫" নামে পরিচিতি পেয়েছে। নতুন পিপিআর ২০২৫ এ বেশ কিছু নতুন সংযোজন রয়েছে। নীচে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন আলোচনা করা হলোঃ

১) ইকনোমিক অপারেটর - পিপিআর ২০২৫ অনুযায়ী ইকনোমিক অপারেটর হলো সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যারা সরকারি ক্রয়ে পণ্য, কাজ বা সেবা প্রদান করতে কোনো ক্রায়কারীর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কার্য ঠিকাদার, পণ্য সরবরাহকারী, ভৌত সেবা প্রদানকারী এবং পরামর্শক। এদের সকলকে একত্রে বুঝানোর জন্য "ইকনোমিক অপারেটর" এর ধারনাটি আনা হয়েছে। এতে আইনের ভাষা অনেক সহজ ও বোধ্যগম্য হয়েছে। বিধি ২(৭) এ "ইকনোমিক অপারেটর" সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। 

২)  ভৌত সেবা: ভৌত সেবাকে নতুন প্রকিউরমেন্ট ধরন (Category) হিসাবে বিবেচনা করে এই ধরনের ঠিকাদারকে “সেবা প্রদানকারী” হিসাবে বিধি ২(৬৩) – এ সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। কাজেই পিপিআর ২০২৫ এ চার ধরনের প্রকিউরমেন্ট রয়েছে, যথাঃ কার্য, পণ্য, ভৌত সেবা এবং পরমর্শাক সেবা। পিপিআর ২০০৮ এ তিনটি ক্যাটাগরী ছিলঃ কার্য, পণ্য এবং পরমর্শাক সেবা।

৩)  ক্রয়কৌশলঃ বিধি ২৪ এ ক্রয় পরিকল্পনার (Procurement Plan) পাশাপাশি ক্রয়কৌশল (Procurement Strategy) প্রণয়ন করার বিধান করা হয়েছে। ক্রয়কৌশল প্রনয়নের অংশ হিসেবে প্রাকক্রয় সভা (Pre-procurement conference) আয়োজন করার জন্য বলা হয়েছে। 

৪)  বিপরীত নিলাম (Reverse auction): বিধি ৯৫ ও ৯৬ এ  বিপরীত নিলামের মাধ্যমে প্রমিত পণ্য ক্রয় করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে বিপরীত নিলাম পদ্ধতিতে শুধু ইলেক্ট্রনিক প্লাটফর্ম ব্যবহার করে ক্রয় করা যাবে। 

৫) উল্লেখযোগ্যভাবে কমমূল্যের দরপত্র (Significantly Low-priced Tender, SLT) - এটা সম্পূর্ণ নতুন ধারনা যা  পিপিআর ২০২৫ এ সংযোজন করা হয়েছে। এটা পূর্ববর্তী +/- ১০% পদ্ধতিকে প্রতিস্থাপিত করবে। এখানে বেশ জটিল একটি ফর্মূলা দেয়া হয়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে কমমূল্যের দরপত্র নির্নয় করার জন্য। মূল্যায়ন পর্যায়ে যেসব দরপত্র উল্লেখযোগ্যভাবে কমমূল্যের দরপত্র হিসাবে বিবেচিত হবে সেগুলো অগ্রহণযোগ্য () হবে। এর ফলে কমমূল্যে কাজ নেয়ার প্রবনতা কমবে। তবে এতে করে সরকারের খরচ বেড়ে যাবে। পণ্য ক্রয়ের জন্য এই ধারনা কতটা বাস্তবসম্মত সে প্রশ্ন থেকে যায়। বিধি ১১৮ এর উপবিধি ২৫, ২৬ এবং তফসিল ১৮ এ SLT এর বিষয়টি উদাহরনসহ বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। 

৬)  নতুন কমিটিঃ পিপিআর ২০২৫ এ নতুন কয়েকটি কমিটি প্রস্তাব করা হয়েছে। যেমনঃ ভেরিয়েশন প্রতিপাদন কমিটি (Variation assessment committee) [বিধি ১৫], কারিগরী পরীক্ষন ও গ্রহণ কমিটি (Technical examination and acceptance committee) [বিধি ১৬], চুক্তি বাতিল প্রস্তাব পর্যালোচনা কমিটি (Contract termination review committee) [বিধি ১৭], বারিতকরণ প্রস্তাব পর্যালোচনা কমিটি (Debarment review committee) [বিধি ১৮] ইত্যাদি। 

৭)  টেকসই সরকারী ক্রয় (Sustainable public procurement): বিধি ২(২০) এ নতুন সংজ্ঞা যুক্ত করা হয়েছে।  টেকসই ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিচার্য বিষয় বিধি ৬ এ বর্নিত হয়েছে। উক্তা বিধি অনুযায়ী বিপিপিএ কর্তৃক টেকসই ক্রয় নীতিমালা (Sustainable public procurement policy) প্রণয়ন করা হবে। 

পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫ বাংলাদেশের সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় আরও বেশি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে। সরকারি অর্থ ব্যায়ের ক্ষেত্রে আরও বেশি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে। সরকারি অর্থের সঠিক ব্যাবহার নিশ্চিত করবে। 

 

 

 

 

 

 

বিনির্দেশ ও প্রাক্কলন কমিটি (Specification and Estimate Committee)

পিপিআর - ২০২৫ এর বিধি-৯ অনুযায়ী ক্রয়কারীকে "বিনির্দেশ ও প্রাক্কলন কমিটি" গঠন করতে হবে। দরপত্র বা প্রস্তাব আহ্বানের পূর্বে উন্নয়ন ও...

See the most popular posts on public procurement of Bangladesh: