পিপিআর - ২০২৫ এর বিধি-৯ অনুযায়ী ক্রয়কারীকে "বিনির্দেশ ও প্রাক্কলন কমিটি" গঠন করতে হবে। দরপত্র বা প্রস্তাব আহ্বানের পূর্বে উন্নয়ন ও পরিচালন উভয় ধরনের বাজেটের আওতায় ক্রয় সম্পাদনের জন্য এই বিনির্দেশ ও প্রাক্কলন কমিটি গঠন করা বাধ্যতামূলক। ক্রয়কারী তফসিল-২ এ উল্লিখিত সদস্যগণের সমন্বয়ে একটি বিনির্দেশ ও প্রাক্কলন কমিটি গঠন করিবে। তফসিল-২ মতে ক্রয়কারী নিজ দপ্তর কিংবা অন্য দপ্তর হতে ন্যুনতম ৩ জন, সর্বোচ্চ ৫ জন সদস্য সমন্বয়ে এই কমিটি গঠন করতে পারবে। লক্ষ্যনীয় যে, বহিঃ সদস্য বাধ্যতামূলক নয়, একইভাবে নিজ দপ্তর হতে সদস্য নেয়াও বাধ্যতামূলক নয়।
বিধি ৯(২) এর বিধানমতে, বিনির্দেশ ও প্রাক্কলন কমিটি পণ্য, কার্য, ও ভৌতসেবা ক্রয়ের জন্য কারিগরি বিনির্দেশ (Technical Specification) বা কার্যসম্পাদন বিনির্দেশ (Performance Specification) প্রস্তুত করবে। বুদ্ধিবৃত্তিক ও পেশাগতসেবা ক্রয়ের জন্য এই কমিতি কর্মপরিধি (Terms of Reference, TOR) প্রণয়ন করিবে।
অতপরঃ বিনির্দেশ ও প্রাক্কলন কমিটি বাজার দর (Market Price) যাচাই এবং/অথবা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত দর তফসিল (Schedule of Rates) মোতাবেক দাপ্তরিক ব্যয়প্রাক্কলন (Official Cost Estimate) প্রণয়ন করবে। [বিধি ৯(২)]
কাজেই দেখা যাচ্ছে যে, এই কমিটি ক্রয় প্রক্রিয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্তঃ (১) বিনির্দেশ প্রস্তুতকরন, ও (২) দাপ্তরিক ব্যয়প্রাক্কলন প্রণয়ন। কাজের গুরুত্ব অনুধাবন করে বিধি ১৯ এ এই কমিটির জন্য সম্মানীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সদস্যগণ সর্বনিম্ন সভা প্রতি ১০০০ এবং সর্বোচ্চ সভা প্রতি ৫০০০ টাকা সম্মানী প্রাপ্ত হবেন। দশ কোটি টাকার উর্ধ্বের ক্রয়ের জন্য সর্বোচ্চ ৩টি সভার জন্য এবং দশ কোটি টাকা পর্যন্ত ক্রয়ের জন্য সর্বোচ্চ ২টি সভার জন্য সম্মানী প্রাপ্য।
বিশেষভাবে লক্ষ্যনীয় যে, এই প্রথম দর তফসিলকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। ইতোঃপূর্বে পিপিআর - ২০০৮ এ শুধু বাজার দর অনুযায়ী ব্যয়প্রাক্কলন তৈরির বিধান ছিল। দর তফসিলে উল্লিখিত বিভিন্ন আইটেমের দর অনেক সময় বাজার দর হতে অনেক কম/বেশি হয়ে থাকে। সে প্রক্ষিতে দর তফসিল এর ব্যবহার ক্রয় প্রক্রিয়া সহজ করবে নাকি আরো জটিলতা তৈরি করবে তা বোঝার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। উল্লেখ্য যে, বর্তমানে বিভিন্ন দপ্তরের দর তফসিল অর্থ মন্ত্রনালয় হতে অনুমোন দেয়া হয়।